জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে, বেড়েছে মাদক: শিল্পমন্ত্রী

0
5
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

দেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে রয়েছে তবে বেড়েছে মাদক সেবন। তাই আমরা মাদকটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মাদক যাতে বেশি পরিমানে বিস্তার লাভ করতে না পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কমিটির সভাপতি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখেছি নভেম্বর ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ মাসে এক বছরে নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ডাকাতি, খুন, অপহরণ ও চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তিনি জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমরা এখন বিশেষভাবে মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তালিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। সেখানে ৮৬০ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ১৮৮ জন জেলহাজতে রয়েছে। তারপরও আমরা মনে করি এ বিষয়ে আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।এই তৎপরতা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি আগামীতে এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, এভাবে মাদক সেবন বৃদ্ধি পেলে জাতির ভবিষ্যৎ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে জনগণকে সম্পৃক্ত করা, সমস্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলে ক্লাসে বসিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। দেশের সমস্ত মসজিদে খুদবা শুরুর আগে ইমাম সাহেব যেন এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কথা বলেন এবং মাদকের খারাপ দিক তুলে ধরেন এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে সমাজে যাতে মাদকবিরোধী একটি সামাজিক বিপ্লব হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এই কর্মতৎপরতা গ্রহণ করেছি। এটা কার্যকর করার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি জানান, জুলাই ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গিবিরোধী ৩২ টি বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাতে অভিযানকালে নিহত হয়েছে ১৮ জন শীর্ষ জঙ্গি, গ্রেপ্তার হয়েছে ৬৪ জন। এদের মধ্যে ৮ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে একজন পুলিশ, র‍্যাব একজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য নিহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে থেকে এ পর্যন্ত ১০১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছে সরকার। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দেশের মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করা হবে।

খালেদা জিয়ার মামলায় বিদেশ থেকে তারেক রহমানসহ তিন আসামিকে ফেরত আনা হবে কিনা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, এটা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার ব্যাপার, এটা কিভাবে করবেন তা তাদের ব্যাপার, আমাদের কোন ব্যাপার না। আদালত কিভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই বিষয়টি তারা দেখবেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের উদ্যোগে কিছু করবে না, এটা আমরা পরিষ্কার বলতে পারি।

খালেদার গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যদি অবনতি হয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রসঙ্গ তুলতেই আমির হোসেন আমু বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলতে যদি মানুষ পোড়ানো হয়, পেট্রোল বোমা মারা হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করা হয়, সেখানে যে ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার মানুষের জীবন রক্ষার জন্য তা অবশ্যই কঠিনভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রহণ করবে।

যারা অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে চান তাদের জন্য এই ভিডিও

উত্তর দিন