খাদ্যপণ্যের দাম আগামী দশকে কম থাকবে

0
14
ওইসিডি
ওইসিডি

বছরভেদে কিছুটা ওঠানামা হলেও আগামী এক দশক ধরে বিশ্বে খাদ্যের দাম বিগত দশকের চেয়ে কম থাকবে। এর কারণ কিছু উদীয়মান অর্থনীতিতে চাহিদার বৃদ্ধির হার কমে যাবে এবং খাদ্যশস্যের দামে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল উৎপাদনের প্রভাব কমে যাবে।

ধনী দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এবং বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘অ্যাগ্রিকালচারাল আউটলুক ২০১৬-২৬’তে এ কথা বলা হয়েছে। আগামী এক দশকে বৈশ্বিক খাদ্যশস্য ও কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও দাম নিয়ে গত সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওইসিডির মহাসচিব অ্যাঞ্জেল গুরিয়া প্যারিসে প্রতিবেদনটি প্রকাশের অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী ১০ বছরে বেশির ভাগ কৃষিজাত পণ্য ও মাছের প্রকৃত মূল্য কমবে। তবে অতীতে যেহেতু দেখা গেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বাজারকে মূল প্রবণতা থেকে বিচ্যুত করে, সেহেতু সরকারগুলোর উচিত বৈশ্বিক খাদ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে একযোগে কাজ করা।

২০১৬ সাল কেমন গেছে, তারও একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল আউটলুকে। এতে বলা হয়, বিগত বছর বেশির ভাগ খাদ্যশস্য, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন অনেক বেশি ছিল। ফলে বিগত দশকের চড়া দামের চেয়ে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের মূল্য অনেক কম ছিল। তবে ২০১৬ সালে তৈলবীজ, ভোজ্যতেল ও চিনির বাজার কিছুটা বেড়ে যায়।

ওইসিডি ও এফএওর হিসাবে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের ভোগ ১৩ শতাংশ বাড়বে। চাহিদা দাঁড়াবে ২৮৬ কোটি টনে, যা এখনকার চেয়ে ৩৪ কোটি টন বেশি। বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের গড় উৎপাদন ৪৯ কোটি টন থেকে বেড়ে ৫৬ কোটি টনে দাঁড়াবে, উৎপাদিত হবে এর চেয়ে সামান্য বেশি। চালের দাম এখনকার ৩৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সাল নাগাদ ৪১৬ ডলার হতে পারে। বৈশ্বিক প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যে গমের বর্তমান গড় উৎপাদন ৭৪ কোটি টন থেকে বেড়ে ৮২ কোটি টন হবে। গড় দাম টনপ্রতি ২০৭ ডলার থেকে বেড়ে ২৪৯ ডলার হতে পারে। ভুট্টার উৎপাদন ১০২ কোটি টন থেকে বেড়ে ১১৬ কোটি টনে দাঁড়াবে। পণ্যটির দাম টনপ্রতি ১৬৪ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ১৯৭ ডলার হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সাল নাগাদ সয়াবিনের দাম টনপ্রতি ৪৪ ডলার থেকে বেড়ে ৪৪৬ ডলার, চিনির দাম ৩৬২ ডলার থেকে বেড়ে ৩৬৭ ডলার, গুঁড়া দুধের দাম ২ হাজার ৬৩৭ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫৩০ ডলারে উন্নীত হতে পারে।

চালের উৎপাদন যে প্রায় ৭ কোটি টন বাড়বে, তাতে অবদান থাকবে বাংলাদেশেরও। ওইসিডি-এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল নাগাদ চালের উৎপাদন প্রায় ২ কোটি টন, ইন্দোনেশিয়ায় ৭০ লাখ টন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডে ৬০ লাখ টন করে, ভিয়েতনামে ৪০ লাখ টন এবং চীনে ৩৫ লাখ টন বাড়বে।

উত্তর দিন