ওয়াসা থেকে পানি কিনবে রেলওয়ে

0
5
বাংলাদেশ রেলওয়ে
বাংলাদেশ রেলওয়ে

নিজস্ব উেসর পরিবর্তে ওয়াসা থেকে পানি কেনার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। চট্টগ্রাম শহরের অভ্যন্তরে রেলওয়ের চারটি জলাধার ও একটি বড় হ্রদের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় বাইরে থেকে পানি কেনার কথা ভাবছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রতি বছর পানি কেনা বাবদ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় হবে, যা লোকসানি প্রতিষ্ঠান রেলের মুনাফায় ফিরতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল বর্তমানে তীব্র পানি সংকটে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের পানি চাহিদা মেটাতে একাধিক বড় জলাধার ও হ্রদ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পক্ষের কাছে এসব জলাধার লিজ দেয়া হলে লিজগ্রহীতারা জলাধারে দূষণ সৃষ্টি করে। এর ফলে রেলওয়ের নিজস্ব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ কারণে রেলওয়ের পক্ষ থেকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে আবাসিক ও কারখানা-সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করা হয়।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে রেলের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্টেশন, ওয়ার্কশপ, ওয়াশপিট ও লোকোশপগুলো পানি সংকটে রয়েছে। নিজস্ব পাঁচটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ নলকূপ থেকেই চাহিদা অনুযায়ী পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গোয়ালপাড়াস্থ নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পানির অভাবে রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকৌশলগত কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল বিভাগ সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে পানি কেনার প্রস্তাব দেয় রেলওয়ে মহাপরিচালককে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয় পানি কেনার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরে গত ৯ আগস্ট রেলভবনে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামে প্রতিদিন রেলের পানির চাহিদা ৬০ লাখ লিটার। রেলওয়ের কার্যক্রম ও সেবা বৃদ্ধির কারণে চাহিদার পরিমাণ বাড়ছে। গভীর নলকূপের মাধ্যমে রেলওয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ লিটার পানি সরবরাহ পেলেও ২৫ লাখ লিটার পানির ঘাটতি থেকে যায়। এ অবস্থায় সমস্যা সমাধানে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা হারে বার্ষিক ৯০ লাখ টাকার পানি কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়। রেলওয়ে মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (অবকাঠামো) পাঠানো ওই চিঠিতে পানির চাহিদা মেটানোর ও বিল পরিশোধের অনুমতির আবেদন করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে মহাপরিচালকের দপ্তর পানি কেনার অনুমোদন দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে চট্টগ্রামে কর্মরতদের প্রাক্কলিত চাহিদার চেয়েও বেশি পানি প্রয়োজন হচ্ছে। রেলওয়ের আবাসিক এলাকাগুলোয় রেলকর্মীর পরিবর্তে একাধিক অবৈধ ভাড়াটিয়া থাকায় অতিরিক্ত পানি ব্যয় হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রেলের কাজে সরবরাহকৃত পানি অবৈধভাবে বিক্রি করে দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের পক্ষ থেকে পানি কেনার বিষয়ে একটি কমিটি ওয়াসার সঙ্গে আলাপ করেছে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ পানি সরবরাহের বিষয়টি সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। দৈনিক ৬০ লাখ লিটার পানি সরবরাহের জন্য নিজস্ব পাইপলাইন ও রিজার্ভার তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। কাজেই চাওয়ামাত্র রেলওয়েকে বিপুল পরিমাণ পানি দেয়া সম্ভব হবে না।

জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, রেলওয়ে চাইলেই পানি সরবরাহ সম্ভব হবে না। বড় গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পানি সরবরাহে ওয়াসার নিজস্ব কিছু নিয়ম রয়েছে। রেলওয়ে পানি কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। ওয়াসার কর্ণফুলী-২ প্রকল্প চালু ছাড়া আগামী কয়েক বছরে বড় গ্রাহকদের পানি সরবরাহ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের পানি চাহিদা মেটাতে ৩৬২ দশমিক ৩৬ একর জমিতে হ্রদ তৈরি করা হয়। এছাড়া পানি সরবরাহের প্রয়োজনে রেলের বিভিন্ন সেকশনাল এলাকায় ঢেবাসদৃশ জলাধার তৈরি করা হয়। তবে এসব জলাধার ইজারা নিয়ে ইজারাদাররা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে পানি দূষিত করলেও রেলওয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ গভীর নলকূপ রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটি পাম্প পুরোপুরি বিকল এবং কয়েকটি থেকে পর্যাপ্ত পানি উত্তোলন করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে রেলের পরিবহন বিভাগ। এ নিয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেড় বছর ধরে লিখিত চিঠি দেয়া হলেও পাম্প মেরামত ও পানি সরবরাহ বাড়াতে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়া হচ্ছে না। এ কারণে আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল হাই বলেন, রেলের প্রচুর পানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নিজস্ব উৎস থেকে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরনো হওয়ায় শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ওয়াসা থেকে পানি কেনার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় সংকট তীব্র, সেসব এলাকায় স্বল্প পরিসরে পানি সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে নিজস্ব উৎসগুলোকে অধিকতর ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উত্তর দিন