এলএনজি রফতানিতে কাতারকে ছাপিয়ে শীর্ষের অস্ট্রেলিয়া

0
5
এলএনজি
এলএনজি

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিকারকদের তালিকায় উপসাগরীয় দেশ কাতারের অবস্থান শীর্ষে। এর পরই অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান। তবে পণ্যটির রফতানি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। কাতারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক বিরোধ চলছে। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশটির অন্যতম রফতানি পণ্য এলএনজি বাণিজ্যে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় পণ্যটির উত্তোলন ও রফতানি দুটোই বাড়ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০২০ সাল নাগাদ এলএনজি রফতানিতে কাতারকে ছাপিয়ে শীর্ষে অবস্থান করবে অস্ট্রেলিয়া। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

গ্লোবাল এনার্জি স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইয়ারবুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে কাতারের অবস্থান ছিল চতুর্থ। এ বছর দেশটি ১৬ হাজার ৭০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস উত্তোলন করেছে। অন্যদিকে তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল দশম। এ সময় দেশটি ৭ হাজার ১০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করেছে। এলএনজি উত্তোলনকারীদের তালিকায় খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও পণ্যটি রফতানিতে কাতার ছিল শীর্ষে। দি স্ট্যাটিস্টিকস পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কাতার মোট ১০ হাজার ৪৪০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি রফতানি করেছে। অন্যদিকে এলএনজি উৎপাদনকারীদের তালিকায় পিছিয়ে থাকলেও পণ্যটির রফতানিকারকদের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এ সময় দেশটি মোট ৫ হাজার ৬৮০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি রফতানি করেছে।

চলতি বছরের জুনে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক টানাপড়েন দেখা দেয়। দেশটির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সৌদি আরবসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ। এর জের ধরে কাতারে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি এবং দেশটি থেকে রফতানি কমে গেছে। অন্যতম রফতানি পণ্য এলএনজি খাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত মাসে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-সাদা এক বিবৃতিতে সরাসরি এ কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, কূটনৈতিক সংকট শুরুর পর থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে এলএনজি রফতানি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে কাতারের এলএনজি রফতানি খাতে দেশগুলোর সম্মিলিত অংশীদারিত্ব ৮ শতাংশের কম। কাতার থেকে এলএনজির প্রধান ক্রেতা দেশ জাপান, চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মোট এলএনজি রফতানির ৭৫ শতাংশ চালান এ চার দেশে যায়। এ কারণে এলএনজি রফতানি-সংক্রান্ত সংকটকে বড় করে দেখতে নারাজ তিনি।

এদিকে বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগাতে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। পরে পণ্যটি তরলে (এলএনজি) রূপান্তর করে রফতানি করবে দেশটি। এজন্য তিমুর সাগর-সংলগ্ন অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম বড় ইচিথায়েস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রকল্পে ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। আগামী বছর নাগাদ খনিটি থেকে ১২ লাখ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খনি থেকে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও জাপানের বাজারে রফতানির টার্গেট করা হয়েছে। ফলে এলএনজি রফতানির ক্ষেত্রে এসব দেশের বাজারে কাতারের একক আধিপত্য অচিরেই হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মেলবোর্নভিত্তিক অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকের (এএনজেড) বিশ্লেষক স্টুয়ার্ট মেয়ার বলেন, বিশ্বব্যাপী এলএনজির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কাতারের এলএনজি রফতানি খাতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া এলএনজি রফতানি দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসেছে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ। তাই বলা যায়, এই মুহূর্তে বৈশ্বিক এলএনজি রফতানি বাণিজ্য অস্ট্রেলিয়ার অনুকূলে রয়েছে। কাতারের ওপর প্রতিবেশী দেশগুলো আরোপ করা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়ার এলএনজি খাতের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২০ সাল নাগাদ এলএনজি রফতানিতে কাতারকে ছাপিয়ে শীর্ষে অবস্থান করবে দেশটি।

এদিকে এ যুক্তি মানতে নারাজ কাতারের উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয় (এমডিপিএস)। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েনি কাতারের এলএনজি রফতানি খাতে। জুনের শুরুতে কাতারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ মাসে দেশটি থেকে এলএনজি ও অন্যান্য গ্যাসের সম্মিলিত রফতানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। আর আগের মাসের তুলনায় যা ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলএনজি উত্তোলন আরো ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্যটির উত্তোলনের পরিমাণ ২০২৪ সাল নাগাদ ১০ হাজার কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে কাতার সরকার। এ পরিকল্পনা কাতারকে এলএনজি রফতানি খাতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর দিন